ছায়াশরীরের প্রেম | লেখক Bs Bhai (ইউনিক বাংলা প্রেমের গল্প)
লেখক: Bs bha
শহরের কোণে ছোট পুরোনো রেস্তোরাঁটার নাম ‘ক্যাফে মেমোরিজ’। কাচের জানালার বাইরে একটানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। ভেতরে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ হাতে একা বসে আছে আবির। আবিরের পেশা অদ্ভুত—সে মানুষের ফেলে যাওয়া পুরোনো চিঠি, ডায়েরি আর ছবি দিয়ে অনলাইন আর্কাইভ তৈরি করে। অতীত ঘেঁটে ইতিহাস খোঁজাটাই তার কাজ।ঠিক দুপুর তিনটে বাজে। দরজার বেলটা বেজে উঠতেই ভেতরে ঢুকল অনুরাধা। পরনে সাধারণ নীল সুতির শাড়ি, ভেজা ছাতাটা দরজার এক পাশে রেখে সে আবিরের উল্টো পাশের চেয়ারটায় গিয়ে বসল। অনুরাধা একজন ফাইন আর্টসের ছাত্রী, যে পুরোনো বিলুপ্ত হওয়া চিত্রশিল্প নিয়ে গবেষণা করছে।আবিরের দিকে একটি কাঠের পুরোনো বাক্স এগিয়ে দিয়ে অনুরাধা বলল, “সবাই বলল এই বাক্সটার মধ্যে কিছু ১৮০০ শতকের স্কেচ আছে, কিন্তু লকটা এতই পুরোনো যে কেউ খুলতে পারছে না। আপনি কি একটু চেষ্টা করবেন?”আবির সাবধানে তার মেটাল টুলেইট দিয়ে বাক্সের পিতলের লকটা খোলার চেষ্টা করতে লাগল। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় একটা সূক্ষ্ম ‘ক্লিক’ শব্দে বাক্সটা খুলে গেল। ভেতরে কোনো মূল্যবান স্কেচ ছিল না; ছিল একটি চারকোল স্কেচে আঁকা তরুণীর পোর্ট্রেট আর পেছনে নীল কালিতে লেখা একটি অসম্পূর্ণ কবিতার দুটি লাইন:”যেদিন বৃষ্টি থামবে, সেদিনও আমার ছায়া রয়ে যাবে তোমার শহরের দেওয়ালে…”
অনুরাধা ছবিটার দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে রইল। ছবির মেয়েটির চেহারার সাথে অনুরাধার চেহারার অদ্ভুত মিল! যেন ১৫০ বছর আগের কোনো ক্যানভাস থেকে অনুরাধা নিজেই হেঁটে এসেছে এই ক্যাফেতে।সেই দিন থেকেই শুরু হলো তাদের এক অদ্ভুত যাত্রা। আবির আর অনুরাধা প্রতিদিন ক্যাফেতে বসত। আবির খুঁজত ওই পোর্ট্রেটের পেছনের ইতিহাস, আর অনুরাধা আবিরের এই কাজ করার ধরণ দেখে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছিল এক অদৃশ্য ভালোবাসার টানে। তাদের কখনো বলা হয়নি ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’, কিন্তু আবির যখন অনুরাধার ভেজা চুলের জন্য নিজের রুমান এগিয়ে দিত, কিংবা অনুরাধা যখন আবিরের অগোছালো খাতার পাতাগুলো গুছিয়ে রাখত—তখন সেই নীরবতায় প্রেম ফুটে উঠত।অনুসন্ধান করে আবির জানতে পারল, ১৮৭০ সালের এক তরুণ চিত্রশিল্পী তার জীবনের শেষ চিত্রকর্মটি বানিয়েছিলেন তার ভালোবাসার মানুষের জন্য। কিন্তু এক সামাজিক দূরত্বের কারণে তাদের মিলন ঘটেনি। সেই অধরা ভালোবাসাই যেন আজ দেড়শ বছর পর আবির আর অনুরাধার মাধ্যমে এক ছাদের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে।একদিন বিকেলে বৃষ্টির গতি বাড়তেই অনুরাধা আবিরের একদম কাছে এসে দাঁড়াল। বলল, “আবির, অতীতকে তো তুমি খুঁজে পেয়েছ। কিন্তু বর্তমানের এই অনুভূতিটার কোনো রেকর্ড রাখবে না?”আবির নিজের তৈরি ডিজিটাল ক্যামেরাটা বের করে অনুরাধার একটা ছবি তুলল। অনুরাধার ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি। সেই হাসির মাঝে কোনো অতীত ছিল না, ছিল না কোনো পুরোনো চিঠি বা স্মৃতি—ছিল কেবল দুজন মানুষের এক অদ্ভুত রূপকথা।বৃষ্টির শব্দ আর কফির মিষ্টি সুবাসে ‘ক্যাফে মেমোরিজ’-এ তৈরি হলোBs Bhai-এর কলমে নতুন এক ভালোবাসার অধ্যায়, যার কোনো শেষ নেই, আছে শুধু এক অমর ভালোবাসার গল্প।
Comments
Post a Comment