বৃষ্টিভেজা অপেক্ষার শেষে – একটি সত্যি ভালোবাসার গল্প
চোখে এক অসীম অপেক্ষার ছায়া। ছবিটির নিচে ছোট করে নাম লেখা ছিল—‘আমার নীরব ভালোবাসা’।
ছবিটি শুধু দেখার মতোই ছিল না, সেদিন সেই প্রদর্শনীতে নীলের ওই ছবিটিই প্রথম পুরস্কার জিতে নেয়। গ্যালারিতে উপস্থিত বিখ্যাত শিল্প সমালোচক ও উদ্যোক্তারা নীলের আঁকা ছবির প্রশংসা তো করলেনই, সাথে সাথে আন্তর্জাতিক একটি ফাউন্ডেশন থেকে নীলকে বিশাল এক বৃত্তির প্রস্তাব দেওয়া হলো।
দর্শকদের তালি আর ক্যামেরার আলোর ঝলকানির মাঝে নীল খুঁজে নিচ্ছিল শুধু একটি মুখ। কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা রিদির চোখে তখন আনন্দের জল। নীল ভিড় ঠেলে সোজা রিদির সামনে এসে দাঁড়াল। পকেট থেকে একটি ছোট ডায়েরি বের করে তার হাতে দিয়ে বলল, “এই ক্যানভাস আর এই ডায়েরির প্রতিটা পাতা শুধু তোমার অনুপ্রেরণায় তৈরি। আমি আর ব্যর্থ নই, রিদি।”
সেই ডায়েরির প্রথম পাতায় লেখা ছিল তাদের পরিচয়ের প্রথম দিনের সেই ছোট কবিতাটি।
কয়েক মাস পর, রিদির বাবা স্বয়ং নীলের বাসায় গিয়ে বিয়ের তারিখ ঠিক করে আসেন। সময়ের ঝোড়ো হাওয়ায় অনেক বাধা এসেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের পারস্পরিক বিশ্বাস, ধৈর্য আর ভালোবাসা দিনশেষে জিতে গিয়েছিল।
আজ এত বছর পরও বর্ষার রাতে যখন রিদি বারান্দায় এসে দাঁড়ায়, পেছন থেকে নীল এসে তার হাতে গরম চায়ের কাপ তুলে দেয়। দূর আকাশে মেঘের ডাক শোনা যায়, আর তাদের ভালোবাসার গল্পটা প্রতিদিন আগের মতোই নতুন হয়ে ফুটে ওঠে।

Comments
Post a Comment